বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ মোবাইল ভিডিও ইউটিউবের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। আপনি ও চাইলে করতে পারেন। যাদের ভালো ধারণা আছে তাদের জন্য অনেকটাই সহজ হবে।
আর যারা নতুন তাদের জন্য একটু কঠিন এবং কষ্টকর হবে। তবে আপনি যদি আস্তে আস্তে শিখেন এবং কাজ করেন তাহলে আপনার জন্য ও সহজ হয়ে যাবে।
ভিডিও নিশ বেছে নিন
আপনি কি বিষয়ে ভিডিও বানাবেন, মানে প্রযুক্তি বিষয়ে ইউটিউব টিপস, ফেসবুক বিষয়ে, কিভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম ইনকাম করে, আর চাইলে ব্লগ ভিডিও, ফানি ভিডিও বা অন্য যেকোন বিষয়ে বানাবেন সেই বিষয় টা আগে বেছে নিন।
আপনার কোন বিষয়ে ভালো লাগে। মানে আপনি কোন বিষয়ে বেশি বুঝেন। সেই বিষয়ে ভিডিও বানালে আপনার জন্য ভালো। এখন ভিডিও টপিক বেছে নেওয়ার পর সেই বিষয়ে আগে থেকে ২-৪টি ভিডিও বানিয়ে রাখুন।
কখন ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন
অনেকেই আগে থেকে চ্যানেল খুলে রাখে। তারপর ভিডিও বানাতে বানাতে অনেক দেরি করে। দেখা যায় একটা ভিডিও আপলোড দেয় আবার ২য় ভিডিও আপলোড দেয় ১মাস পর এমন করলে হবে না। ভিডিও আপলোড করার জন্য নির্দিষ্ট একটা সময় বেছে নিন।
তারপর সেই সময় অনুযায়ী ভিডিও আপলোড করুন। তবে একটা বিষয় যদি আপনি ভাইরাল টপিক উপর ভিডিও আপলোড করেন। সেই ক্ষেত্রে ৩দিন পর অথবা ৬দিন পর ভিডিও আপলোড করলেও সমস্যা হবে না।
মানে আপনি যে ভিডিও গুলো আপলোড করছেন সেই ভিডিও গুলোতে প্রতিনিয়ত ভিউ আসতেছে তাহলে কোন সমস্যা নাই। চ্যানেল ডাউন হওয়ার ভয় নাই। আগে কয়েকটি ভিডিও বানান তারপর চ্যানেল খুলেই প্রথম ভিডিও আপলোড করুন।
কিভাবে মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন
ইউটিউব চ্যানেল খুলার জন্য যা যা দরকার👇
- নতুন ফ্রেশ জিমেইল একাউন্ট
- ইউনিক নাম, চ্যানেলের জন্য
- চ্যানেল লোগো, ব্যানার ও ডেসক্রিপশন
- চ্যানেল কিওয়ার্ড
- কি ধরনের ভিডিও আপলোড করবেন, চ্যানেল ক্যাটাগরি বেছে রাখুন।
এই কয়টা বিষয়ে আগে থেকে নোটপ্যাডে লিখে রাখুন। তারপর চ্যানেল খুলার জন্য প্রস্তুত হন।
চ্যানেল খুলার নিয়ম
ইউটিউব অ্যাপে ঢুকুন, তারপর যে জিমেলে চ্যানেল খুলবেন, সেই gmail টা লগইন করুন। তারপর 👇
উপরে স্ক্রিনশট ওখানে ক্লিক করুন। তারপর👇
চ্যানেল লোগো, নাম এবং হ্যান্ডেল দেওয়ার পর "CREATE CHANNEL" ক্লিক করুন। তারপর চ্যানেল খুলা হয়ে যাবে। তারপর চ্যানেল ডিপসেকশন লিখুন। তারপর ক্রোম থেকে ডেক্সটপ মোডে চ্যানেল স্টুডিও তে যান। তারপর সেখান থেকে চ্যানেল কাস্টমাইজেশন করুন।
তারপর আমার সেটিং করুন। চ্যানেল সেটিং এ রয়েছে; "চ্যানেল কান্ট্রি, চ্যানেল কিওয়ার্ড, চ্যানেল ফোন নাম্বার ভেরিফাই, চ্যানেল ক্যাটাগরি, ভিডিও ভাষা" এগুলোকে আপডেট করুন। তারপর আপনার চ্যানেল সম্পূর্ণ কাজ গেছে।
ফোন দিয়ে ভিডিও বানানোর জন্য যা দরকার
প্রথমে বলি অনেকে চিন্তা করে। যে কত টাকার ফোন হইলে ভালো হয়। যে ভিডিও বানানোর জন্য ভালো দামি ফোন প্রয়োজন এটা অনেকেই ভাবে। কিন্ত এখন কার ফোনগুলো অনেক উন্নত হয়েছে। চাইলে ১০হাজার টাকার ফোন দিয়ে ভালো ভিডিও বানানো এডিট করা যায়।
আমি নিজেই কিন্তু (Vivo y03t) ১১হাজার টাকার ফোন দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করি। অনলাইনে সব ধরনের কাজ করি এই ফোন দিয়ে। মেন কথা হচ্ছে যে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তাই ফোন যেমন হোক না কেন চাইলে ভাঙ্গা ফোন দিও ভিডিও বানানো যায়।
কোন ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করবেন
ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করার জন্য, (Open Camera) সব থেকে ভালো এই অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে পেয়ে যাবেন। ক্যামেরার কোন সেটিং করতে হবে না।
আগে থেকে ডিফল্ট অবস্থায় সেটিং করা থাকে। যাক ভিডিও রেকর্ড করার জন্য ঠিক আছে। আর যদি আপনি সেটিং বুঝেন তাহলে দেখতে পারেন। যে কোনো সেটিং পরিবর্তন করতে হবে কিনা।
কোন মাইক্রোফোন ব্যবহার করবেন।
ভিডিও ভয়েস জন্য চাইলে ফোন মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারেন। ভয়েস যদি আরও একটু ভালো করতে চান। তাহলে টাকা মাইক্রোফোন কিনে নিতে পারেন।
কম টাকার ভিতরে (Boya By M1) মাইক্রোফোনটি অনেক ভালো, এই মাইক্রোফোনটি আমি প্রায় ৬বছর ধরে ব্যবহার করছি। অনেক ভালো ভয়েস রেকর্ড হয় একদম ক্লিয়ার।
ভিডিও এডিটিং সেরা অ্যাপস
তারপর ভিডিও এডিটিং এর জন্য, এডিটিং অ্যাপ প্রয়োজন আপনি যদি আগে থেকে কোন অ্যাপ দিয়ে ভিডিও এডিটিং করে থাকেন বা সেই অ্যাপটি দিয়ে ভিডিও এডিটিং করতে পারেন। আপনি সেটাই ব্যবহার করুন। আর বর্তমান ভিডিও এডিটিং জন্য সেরা অ্যাপস হচ্ছে: "KineMaster, Capcut, VN, InShot, PowerDirector" এই অ্যাপস গুলো এডিটিং জন্য সেরা।
সর্ব প্রথম আগের যুগে সবাই KineMaster দিয়ে ভিডিও এডিটিং করতো। তারপর Capcut জনপ্রিয় হলো, আমি এখনও KineMaster দিয়েই ভিডিও এডিটিং করি। এখন আপনি সব গুলো দেখতে পারেন। কোনটা আপনার কাছে ভালো লাগে সেটা দিয়ে আপনি এডিট করতে পারেন।
আরও যদি আপনি স্ক্রিন রেকর্ড বা গেমিং ভিডিও বানিয়ে থাকেন। তাহলে স্ক্রিন রেকর্ড অ্যাপ টা প্রয়োজন। ডিফল্ট ভাবে স্ক্রিন রেকর্ড অপশন থাকে। আর ভালো কোয়ালিটি ভিডিও করতে চান। তাহলে (X Recorder) সব থেকে বেশি ভালো।
কিভাবে Thumbnail বানাবেন
ভিডিওর থাম্বনেইল হচ্ছে মেইন কারণ মানুষ ভিডিও থাম্বনেইল দেখে ভিডিও দেখতে চায়। তাই থাম্বনেইল বানাতে হবে (High quality) ফুল থাম্বনেইল।
থাম্বনেইল বানানোর জন্য (Pixellab) অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর থেকে ইনস্টল করুন। এই অ্যাপ অনেক বড় বড় ইউটিউবার এখনো পর্যন্ত থাম্বনেইল বানায়।
ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার নিয়ম
মোবাইল দিয়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার জন্য "ইউটিউব অ্যাপ" দিয়ে আপলোড করতে পারবেন। তারপর (YT Studio) অ্যাপ থেকে সকল কাজ করতে পারবেন। এখন ইউটিউব অ্যাপ দিয়েও সব কাজ করা যায়।
শেষ কথা
যারা নতুন কাজ শুরু করেছেন। তারা কাজ করতে থাকুন তাহলে এক সময় গিয়ে আপনি সফল হবেন। প্রথম অবস্থায় ভিডিওতে ভিউ নাও আসতে পারে। কিন্তু হতাশ হলে বা কাজ বাদ দিলে হবে না। আপনার কাজ হবে, ভিডিও আপলোড করা।
তারপর আস্তে আস্তে এমনিতেই ভিডিও ভাইরাল হবে। চ্যানেল মনিটাইজেশন করে ইনকাম করতে পারবেন। আর আপনি যদি ভাইরাল টপিক অথবা ইউনিক টপিকের উপর ভিডিও বানান তাহলে মানুষ জন দেখবে বেশি এতে আপনি জনপ্রিয় হবেন তাড়াতাড়ি,
আর যারা প্রথমে ভিউ নিয়ে চিন্তায় থাকেন তাদের জন্য বলি তারা আপনি ১টা ২টা ভিডিও আপলোড ভিউ আশা করেন কিভাবে, আমি ৫০+ ভিডিও আপলোড করার পরেও ভিউ আসতো ১-১০ টা করে। তারপর ভিডিও ধরন ভিডিও এসইও (SEO) করালাম ভালো ভাবে তারপর ভিডিও ভিউ আসতে লাগলো বেশি।